Text size A A A
Color C C C C
পাতা

জেনারেল ম্যানেজারের বাণী

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”

ঠাকুরগাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভার সম্মানিত সভাপতি, এলাকা পরিচালকবৃন্দ, মহিলা পরিচালকবৃন্দ, উপস্থিত সম্মানিত গ্রাহক সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথীবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড থেকে আগত অতিথিবৃন্দ,অত্র পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও স্থানীয় বৈদ্যুতিক উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ এবং সন্মানিত সূধীবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্‌মতুল্লাহ্‌।আজকের এই আনন্দঘন দিনে দূর দূরান্ত হতে অনেক কষ্ট স্বীকার করে এই সভায় অংশ গ্রহনের জন্য ঠাকুরগাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপনার পক্ষ হতে উপস্থিত সকলকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ ও সুস্বাগতম।

 

 

সম্মানিত গ্রাহক সদস্যবৃন্দ,

ইতিমধ্যেই গত ৯-১১ জানুয়ারি ঠাকুরগাও ও পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে আপনারা অবগত হয়েছেন যে ঠাকুরগাও ও পঞ্চগড় জেলার ১০টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ঠাকুরগাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অত্র সমিতি ডিসেম্বর ২০০৮ পর্যন্ত ৪৬৪৬ কিঃমিঃ লাইন নির্মান করেছে। বিগত ০৮ বছরে আরও ২১১৪ কিঃ মিঃ নতুন লাইন নির্মান করে ১৩২৯৯৯ জন গ্রাহককে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছে।সূচনালগ্ন থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ খ্রিঃ পর্যন্ত এই সমিতি সর্বমোট ২,৩৮,৩৯৭ জন বিভিন্ন শ্রেনীর গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছে ।বিগত সকল মাসের বিদ্যুৎ সংযোগ রেকর্ড ছাড়িয়ে গত নভেম্বর/১৬ খ্রিঃ মাসে ৭০৮২ টি নতুন সংযোগ প্রদান করেছে। গত বৎসরে অত্র সমিতি  গড়েয়ায় ০১ টি নতুন ০৫ এমভিএ এবং রুহিয়ায় ০১টি নতুন ১০ এমভিএ ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মান করে মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষমতা ৯৫ এমভিএ হতে ১১০ এমভিএ-তে উন্নীত করেছে। এ পর্যন্ত অত্র সমিতির আওতাধীন মোট ১৫০১টি গ্রাম বিদ্যুতের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে। যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্প বিকাশের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে।

 

সম্মানিত সুধীবৃন্দ,

আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অত্র সমিতির আওতাধীন দেবীগঞ্জ উপজেলায় ০১টি ৬১৯ একর জমির উপর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। উক্ত কার্যক্রমকে ত্বরানীত করার জন্য অত্র সমিতি ইতিমধ্যেই দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১.৫ মিলিয়ন গ্রাহক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ০১টি নতুন ১০ এমভিএ ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মানের পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের ভিশন ২০২১ অনুযায়ী ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে হরিপুর ও বোদা উপজেলায় আরআরডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় আরো ০২টি নতুন ১০ এমভিএ ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মান ও বালিয়াডাঙ্গী উপকেন্দ্রটি ০৫ এমভিএ  থেকে ১০ এমভিএ তে উন্নীত করণ, ১.৮ মিলিয়ন গ্রাহক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় আটোয়ারী উপকেন্দ্রটি ০৫ এমভিএ থেকে ১০ এমভিএ তে এবং ১.৫ মিলিয়ন গ্রাহক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় নেকমরদ উপকেন্দ্রটি ০৫ এমভিএ থেকে ১০ এমভিএ তে ও বোদা উপকেন্দ্রটি ১০ এমভিএ থেকে ১৫ এমভিএ তে উন্নীত করনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।বর্তমানে আমাদের ১৩ তি উপকেন্দ্রের মোট বৈদ্যুতিক ক্ষমতা ১১০ এমভিএ যা দ্বারা আরো অনেক শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক, সেচ ইত্যাদি সংযোগ প্রদান করা যাবে।সরকারের প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার অঙ্গীকার রক্ষা করার জন্য আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

সন্মানিত অতিথীবৃন্দ ,

আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, গত ৮ ডিসেম্বর খ্রিঃ বাংলাদেশ ১৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করায় আলোক উৎসব পালন করেছে যার ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।এছাড়া পঞ্চগড় জেলার ১১ টি অধুনালুপ্ত ছিটমহলে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক অতি অল্প সময়ের মধ্যে ২২৬ কিঃ মিঃ লাইন নির্মাণ করে প্রায় ৯০০০ টি নতুন বাংলাদেশী পরিবারকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করা হয়েছে।এর ফলে বাংলাদেশের নতুন নাগরিকদের জীবন যাত্রায় ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।

 

সন্মানিত উপস্থিতি,

বিগত বছরগুলোতে শিল্পায়ন ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের ক্রমধারায় বিদ্যুতের ব্যবহার ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।বর্তমানে লোডশেডিং নাই বললে চলে।তবে সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকালে  ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পায় বলে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়।তাই ঐ সময়ে সন্ধ্যা ৬.০০ টা থেকে রাত ১১.০০ টা পর্যন্ত আবাসিক গ্রাহকগণের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব ব্যবহারের জন্য সন্মানীত গ্রাহক সদস্যবৃন্দকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

সুধী মন্ডলী,

গ্রাহক সদস্য মাত্রই সমিতির মালিক ও সেবক।বিদ্যুতের সুষ্ঠ ব্যবহার, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ ও সমিতির কাজে আরও  সহায়তা দানের জন্য আহবান জানাচ্ছি।বিদ্যুৎ বিতরন লাইনে ব্যবহৃত সকল মালামাল জাতীয় সম্পদ।কতিপয় অসাধু ব্যক্তি কর্তৃক অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারসহ লাইনের ট্রান্সফরমার ও তার চুরির ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।ট্রান্সফরমার ও তার চুরি হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নসহ সমিতির উন্নয়ন কর্মসূচী ব্যাহত হয়, যা কোনক্রমেই কাম্য হতে পারেনা।তাই সমিতির অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করার স্বার্থে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার, বৈদ্যুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছি।

 

পরিশেষে, ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আজকের এই ২৯-তম বার্ষিক সাধারন সভাকে সাফল্যমন্ডীত করে তোলার জন্য উপস্থিত সকলকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।ভবিষ্যতে সমিতির সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে আপনাদের সর্বাত্নক অংশগ্রহন ও সহযোগিতার আহবান জানিয়ে সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আমার বক্তব্য শেষ করছি।মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। 

মোঃইনছের আলী
জেনারেল ম্যানেজার
ঠাকুরগাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

 

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)